Baotipara, Faridpur, Bangladesh. 28 March 2008. Gosai Das and team

Listen to a song from this session
Artist:
Gosai Das and team
Composer:
Banikanta Das
Form:
Kirtan
Song region:
Faridpur







এই রেকর্ডিং সেশন ২০০৮ সালের। গোঁসাই দাসের সঙ্গে আমাদের আলাপ অবশ্য আরো পুরোন।

২০০৬-এর ফেব্রুয়ারীর এক সন্ধ্যায়, আমাদের ফরিদ্পুরের দুই বন্ধু, সাঈদ আর সঞ্জয় মিলে ভাঙ্গা থেকে আমাদের নিয়ে গেলেন ফুলসতি গ্রামে। সেখানে সাঈদের নানার বাড়ি। সেই সূত্রে সাঈদ ফুলসতির শিল্পীদের খবর এনেছিলেন। কি গান রেকর্ড করতে যাচ্ছি সে সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানতাম না আমরা। গ্রামে গিয়ে দেখি রইরই কান্ড। লাল পাড়-সাদা শাড়িতে সজ্জিত মেয়েরা একটি ক্লাবঘরের বারান্দায় সারি সারি দাঁড়িয়ে। তাদের হাতে ফুলের ডালা। আমরা পৌঁছতেই কারা যেন মৌসুমীকে, ‘দিদি আসুন আসুন’ করতে করতে ঘিরে ফেলল আর মেয়েরা, হতভম্ব আমাদের দিকে রাশি রাশি গাঁদা ফুলের পাপড়ি ছুঁড়তে থাকল। শাঁখ-টাঁখও বেজে থাকতে পারে, ঠিক মনে পড়ছে না এখন! আমার হতভম্ব ভাবটা কাটতে ৩০ সেকেন্ড লেগেছিল মনে হয়। তার মধ্যেই জনতা মৌসুমীকে ঘিরে ফেলে ক্লাবঘরের দিকে নিয়ে চলেছে দেখতে পেলাম। ভিড়ের মধ্যে হলুদ ফুলের পাপড়ি ঢাকা মৌসুমীর মাথা ভেসে চলেছে দেখতে দেখতে আমিও হাঁটা দিলাম সেদিকে।

সাঈদ সম্ভবত এতটা আশা করেননি। প্রাথমিক উচ্ছ্বাস কিছুটা কমতে, সাঈদকে দেখলাম প্রাণপণে লোকজনকে বোঝাবার চেষ্টা করছেন আমাদের এখানে আসার উদ্দেশ্য। এই অভূতপূর্ব আয়োজন যিনি করেছিলেন, তিনি কোন রাজনৈতিক দলের এই অঞ্চলের নেতা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। ধীরে ধীরে বুঝলাম এই সভায় তিনিই সব। তিনিই আয়োজক, তিনিই বক্তা, তিনিই শিল্পী– এক দেহে যতকিছু হওয়া সম্ভব, কেবল শ্রোতা ছাড়া, সবই এ’ সন্ধ্যায় তিনি। নিজের অজস্র কথা ও বেশ কয়েকখানি গানের পর যখন তাঁর পছন্দের অন্য দু’একজন গায়ক সুযোগ পেলেন, আমরা ততক্ষণে হাল ছেড়ে দিয়েছি। সাঈদ বেচারা অপ্রস্তুত।

আসরে নানারকম গান হয়ে চলেছে। কর্তার নির্দেশে একে একে গায়কেরা, হারমনিয়াম, তবলা, করতাল সহযোগে, যাঁর যা জানা ছিল উজাড় করে দিচ্ছেন আমাদের সামনে। অনেকেরই গলায় চমৎকার মেঠো ভাবটি আছে। দু’একজন সুন্দর গাইলেনও। কিন্তু বেশিরভাগেরই গানে মনে রাখার মত নিজস্বতা প্রায় নেই। রেডিওর ‘পল্লীগীতি’ অনুষ্ঠান শুনছি মনে হয়। একের পর এক গান হয়ে চলেছে, কিন্তু সবই একরকম। ‘পল্লীগীতি’ শব্দটা ব্যবহার করলাম কারণ রেডিওর সেই একঘেয়ে ‘করতে হবে বলে করা’-টাইপের অনুষ্ঠানের সঙ্গে শব্দটা প্রায় সমার্থক হয়ে গেছে এতদিনে। পল্লীগীতির অনুষ্ঠান মানে দূরদর্শনেও যেমন অবধারিত মাটির দাওয়া, খড়ের চাল আর মেঝেতে আলপনার সেই চিরাচরিত সেট; অথবা ব্যাকড্রপে রাঙামাটির পথ, বাঁকা নদী ও তালগাছ, আর তার সামনে পাটভাঙা পাজামা-পাঞ্জাবি বা শাড়ি পরে, ভয়াবহ উচ্চারণে, তথাকথিত ‘গ্রাম্য ভাষায়’ উচ্চকন্ঠে গান। রেডিওতে অন্তত এই দৃশ্যগত বিভীষিকাটা নেই। তবে ‘গ্রাম্য ভাষার’ বিভীষিকা সমানভাবে বর্তমান।

যে কোন বিষয়কে স্টিরিওটাইপে বেঁধে ফেলার সুবিধে হল, আপনি কতকগুলি boundary condition পেয়ে গেলেন। অঙ্ক কষার সুবিধের জন্য যেমন hypothetical condition হয়– x tends to zero বলে পাতাখানেক আঁক কষে ফেললেন; x tends to infinity বলে আরো পাতাখানেক! তবে তার পিছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি থাকে। শিল্পে তো আবার ওসব নিষিদ্ধ। সবই হৃদয়ের কারবার। সুতরাং ভাষা tends to গ্রাম্য হলে খাতাভর্তি repertoire নামিয়ে দেওয়া তো স্রেফ জলভাত। এক অনুষ্ঠানে গোটা বঙ্গদেশ তার বৈচিত্রের ডালি নিয়ে আপনার সামনে দন্ডায়মান!

 

tta

 

Gosai Das, Fulsati Session, Feb 2006

যাকগে, ফুলসতিতে ফিরি। আমরা সেই অপ্রতিরোধ্য সঙ্গীত-প্রবাহে যখন হাবুডুবু খাচ্ছি, ক্যাপ্টেন ও তাঁর দলবলের ভান্ডার প্রায় উজাড়, এমন সময় নেতা মহোদয় একজনকে ডাকলেন, যাঁকে আমরা এতক্ষণ লক্ষই করি নি। ঘরের কোণে কোথাও বসে ছিলেন শীর্ণকায়, পানের কষে ঠোঁট লাল, গলায় মাফলার ও গায়ে মলিন চাদর জড়ানো পলিতকেশ সেই বৃদ্ধ। নেতা বললেন, ‘আমাদের গান তো শুনলেন, এবার এই বুড়ো মানুষের একটা গান শুনুন’। আমি তো মাইক বাগিয়ে রেডি হলাম। যদিও আশা-ভরসা তেমন ছিল না।
কিন্তু সেই বৃদ্ধ প্রথম সুরটি লাগানো মাত্র আমরা সব নড়েচড়ে বসলাম।
Rugged, পোড় খাওয়া কন্ঠস্বর আর তেমনি ভাব! এতোক্ষণের এলোমেলো আসর নিমেষে জমাট বেঁধে গেল।

বৃদ্ধ গাইছিলেন, ‘আমার নিদান কালে, তোমার দেখা পাব…’। কীর্তনের ঢঙে গাওয়া, সঙ্গে ধুয়ো ধরছিলেন কেউ কেউ। দেখলাম গানটা অনেকেই জানেন। একটা নতুন ব্যাপারও লক্ষ করলাম। গানের একটা নতুন লাইন শুরুর ঠিক মুখে সেই লাইনের প্রথম শব্দটি বলে উঠছেন কেউ একজন। শুনলে মনে হবে, ভুলে যাওয়া গানের কথা ধরিয়ে দিচ্ছেন বুঝি। পরবর্তীকালে এই গায়কীর সঙ্গে আরো পরিচয়ের পর বুঝেছিলাম তা নয়, এটা গায়নরীতি। এখন যদিও লিখছি লক্ষ করেছিলাম, কিন্তু সেই মুহুর্তে এতসব লক্ষ করার মত অবস্থা আমাদের ছিল না। তৃষ্ণার্ত মানুষের কাছে শীতল জলের মত সেই গানে আমরা ভেসে গেছিলাম। আর কীর্তনের সেই টিপিক্যাল চলন– আহা, কখনো খোল-করতাল-ধুয়ো সহযোগে তুঙ্গে ওঠে, আবার ধীর লয়ে ফিরে যায় দুলকি চালে। গান কতক্ষণ চলেছিল মনে নেই (এখন রেকর্ডিং-এ দেখছি ১৫ মিনিটের মত), যখন শেষ হল, আমাদের সকলের চোখের কোণ চিকচিক করছে। সবচেয়ে আনন্দ বোধহয় হয়েছিল সাঈদের। বৃদ্ধ ওঁকে লজ্জার অতল থেকে টেনে তুলে, সোজা গর্ব আর আনন্দের আকাশে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। গান শেষে সাঈদ সোজা ডাইভ দিলেন শীর্ণকায় বৃদ্ধের উপর।

প্রাথমিক উচ্ছ্বাস কিছুটা থিতোলে আমরা ওনার পরিচয় পেলাম। নাম, গোঁসাই দাস। নিবাস, বাওতিপাড়া, ফুলসতির ঠিক পাশের গ্রাম। এই অঞ্চলের বিখ্যাত স্বভাবকবি, সাধক বাণীকান্ত দাসের বংশের মানুষ, সম্পর্কে তাঁর নাতি। গোঁসাই যে পদটি গেয়েছিলেন, সেটি বাণীকান্তেরই। ওঁদের উচ্চারণে ‘বাণীকান্থ’!

বাণীকান্তের গান এই অঞ্চলের মানুষের নিত্যসঙ্গী। সকলেই যে গোঁসাইএর সঙ্গে গলা মেলাচ্ছিলেন কি করে, সেটা আমরা এখন বুঝতে পারলাম।
বাণীকান্ত সম্পর্কে জানা যায় যে তিনি উচ্চমার্গের সাধক ও প্রতিভাবান স্বভাবকবি ছিলেন। মাঠে লাঙল চালাতে চালাতে গান বেঁধে ফেলতেন। সাধনতত্ত্বের গানের লাগসই পাল্টা জবাব তৈরি করতেন নিমেষে। বাওতিপাড়ার বিমল দাসের কথায়, ওঁর জবাবি গানে চমৎকৃত হয়ে, ‘ইংরাজ সরকার বাহাদুর’ নাকি বাণীকান্তকে বলেছিলেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ বাংলা কবি’!

আসর সেদিনের মত শেষ হল। নেতা সাহেব আমাদের জন্য কিঞ্চিৎ জলযোগের আয়োজন করেছিলেন। ওঁদের সহৃদয় আতিথেয়তায় জলযোগ যদিও আর কিঞ্চিৎ রইল না। সারি দিয়ে বসে আকন্ঠ উৎকৃষ্ট চালের পিঠে খেয়ে যখন ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম, তখন বেশ রাত। মিহি কুয়াশার চাদরে আশপাশ ঢাকা।

যেতে যেতেই আমরা ঠিক করে ফেললাম যে এই গোঁসাইকে ভালো করে রেকর্ড করতেই হবে। ঠিক হল, কাউকে কিছু না বলে, পরেরদিন আমরা সোজা বাওতিপাড়া গ্রামে হাজির হব। তারপর যা থাকে কপালে।

পরদিন যখন গোঁসাইএর বাড়ি পৌঁছলাম আমরা তখন সন্ধ্যা হব হব। বাংলার আর পাঁচটা দরিদ্র গ্রামের সঙ্গে বাওতিপাড়ারও বিশেষ তফাত নেই। কাঁচা মাটির রাস্তা, ডোবা আর ইতস্তত ঝোপঝাড়ের মধ্যে ছোট ছোট বাড়ি। অধিকাংশেরই খড়ের চাল, ছিটে বেড়া, সামনে ছোট্ট উঠোন। এমনই এক উঠোনে পাটি বিছিয়ে আমাদের বসার আয়োজন হল। গোঁসাইএর পরিবারের আরো লোকজন আশেপাশেই থাকেন। আমাদের দেখতে উঠোনে বেশ ভালই লোকজন জড়ো হল। গ্রামের মেয়ে-বৌরাও গাইলেন আমাদের অনুরোধে। সেই রেকর্ডিংও রয়েছে এখানে

Gosai Das, Baotipara Session, 2008. Nepal Das on harmonium.

যাঁর বাড়ির উঠোনে আয়োজন হয়েছিল, সেই বৃদ্ধ বাণীকান্তের ছেলে। তিনি নিজে গান করেন না। তবে আমাদের পেয়ে একেবারে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। ওঁদের নিস্তরঙ্গ জীবনে বেশ একটা আলোড়ন তুলে আমরা হাজির হয়েছিলাম। গ্রামে-গঞ্জে আলোড়ন যেটুকু হয়, সেগুলি অধিকাংশ সময়েই রাজনৈতিক; গান শুনতে বা রেকর্ড করতে ‘ইন্ডিয়া’ থেকে আর কটা লোক যায়। সুতরাং ওঁদের জন্য ব্যাপারটা বেশ নতুন ধরনের ছিল নিশ্চয়ই।

একটা বিষয় অবশ্য বারেবারেই লক্ষ করেছি যে বাংলাদেশের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় গেলেই ওঁরা আমাদের নিজেদের গোষ্ঠীর লোক, পরমাত্মীয় মনে করেন। এটা হয়ত সর্বত্রই সংখ্যালঘু মানুষের একটা প্রবণতা। কিন্তু নিজেদের একটা বৃহত্তর সমাজের অংশ কল্পনা করে ক্ষণিক আরাম আর ক্ষণস্থায়ী স্বস্তির এই বাতাবরণ তৈরীর পিছনে, দেশ-কাল নির্বিশেষে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক শোষণের ইতিহাসকে তো অস্বীকার করা চলে না। মানুষের উপর মানুষের নিপীড়নের মানসিকতার বীজ সর্বত্র ছড়ানো। কোথাও তা রাষ্ট্রের মদতে পল্লবিত হয়ে শাখা-প্রশাখা বিস্তার করছে, কোথাও হয়ত তা এত প্রকাশ্য নয়। আর আমাদের ইতিহাস তো সরাসরি ধর্মকে শিখণ্ডী করে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল ও ভাগাভাগির ইতিহাস।

পরে মৌসুমীর কাছে শুনেছি, ঘরের ভিতরে ওকে ডেকে নিয়ে গিয়ে সেই বৃদ্ধ, বাণীকান্তের ছেলে, অঝোরে কেঁদেছেন আর বলেছেন এ’ দেশ ছেড়ে চলে যাবেন ইন্ডিয়ায়। বাইরে তখন গোঁসাই, বিমল, নেপাল ও আরো অনেকে গাইছেন কৃষ্ণের অভিমান, ‘আমি চলিলাম রাই ব্রজ ছেড়ে, আর তো আসব না… আমি দেশের মানুষ দেশে যাব, এই দেশেতে আর থাকব না’। কত ব্যথায় মানুষকে আজন্মের চেনা মাটি, চেনা ঘর, চেনা মানুষ ছেড়ে চলে যাবার কথা ভাবতে হয়, তার আর আমি কি বুঝব।

এই লেখা যখন লিখছি, তার ঠিক দু’সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে আগামী পাঁচ বছর ভারতবর্ষের শাসন কাদের হাতে যাবে। ভোট শুরুর আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর আস্ফালনে দেশের আকাশ বাতাস মুখর। সম্প্রতি কাগজে দেখলাম, তিনি ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের’ বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। ১৬ মে ভোটের ফলাফল বেরোবার পরেই নাকি তাঁদের দেশ ছাড়তে হবে!

এবারে কোন দেশের মানুষ কোন দেশে যাবে কে জানে!

মে, ২০১৪

Gosai in Baotipara Session, 2008.

This was the third time we were meeting Gosai Das. Sukanta has written about the first two encounters; about how we met on 20 January 2006 in Fulsati village and how that meeting was filled with the thrill of discovery. The second meeting the very next day was in Gosai Das’ native village, Baotipara, next to Fulsati. His song of the previous evening, in a mixed bag of performances by various performers, had left us asking for more so we went back to quench our thirst. Then the third session, two years later, from which this song here comes.

‘I am walking in search of songs of biraha across a map made up of disjointed pieces of land and water . . . On the wayside are scattered moments of love, loss and longing, which I pick up as I pass them by. It is these moments which I believe make a song, not just the words and musical structure or the idea or message a song tries to express. Besides, it is in both the singing and listening that a song gets made; in the moment and place of utterance and in the person who utters the song.

‘I felt this very strongly the night we went to Baotipara village in Faridpur district of Bangladesh to record songs of the twentieth century bhakta-poet Banikanta, sung by members of his family and the community.‘ This is an extract from my essay ‘Madly in Love: On the trail of songs of separation’ in Poetics and Politics of Bhakti and Sufism in South Asia, a book edited by Kavita Panjabi (New Delhi: Orient Blackswan, 2011).

If Baotipara was a place in one of those countries known for their detailed methods of recording, documenting and preserving the past for posterity and building archives and museums; where they put up plaques for people and remember them for their deeds; if Baotipara was in such a part of the world, then people would know its name for the works of an unlettered man who lived in the early part of the twentieth century and composed songs as naturally as he talked. His name was Banikanta Das. Early twentieth century, so they might even have had a short film or a recording of his voice: Amar naam Banikanta Das!

It is said that Banikanta talked in songs. However, there is no ‘record’ of such details in this un-archived world, except in Baotipara’s collective memory. It is said the folk poet and folklorist Jasimuddin used to visit Banikanta and write down his songs. However, when they were compiled in anthologies edited by Jasimuddin—some born cynics claim—Banikanta’s signature or bhonita was erased from some of the songs (in this system of song’writing’—rather, songmaking—there is usually a verse with the poet’s name). It is difficult to prove or disprove such claims, especially because in an oral culture, there are expressions and idioms which belong to the collective; and to Time, as it were, even though the work might be ascribed to an individual poet/composer.

How then does a place like Baotipara keep record of its time and events? Though unknown to the wider world, places like Baotipara and Fulsati still know Banikanta as their living history. Myths around meetings of the neighbouring town’s ‘folk’ poet with the village’s mystic poet are still retold. ‘Kobishaab’ Jasimuddin is both revered and criticised. Banikanta’s songs are still sung. For how many more generations this will continue, it is hard to say.

In a sense, we are working at a moment of overlap, when the oral tradition of recording and transmitting knowledge in a place like Baotipara is still alive, while we are ‘recording’ with the machine, for our sakes as well as the future. In many parts of the world this process of transition is over, but in our part of the world multiple times coexist. There are ways and ways of recording. This recording was made in 2008 and I am writing this note in 2014. Now most people own mobile phones which can record almost anything which happens to our lives and around us, in audio and video format. Will this technology also bring about the demise of traditions? There are other questions too, mainly of our sub-continent’s politics. Some day Baotipara might become a different world, demographically changed and culturally transformed. Then, while the television might be dishing out global soaps for local consumption on a late spring night, there could be a new rhyme to teach to the children of our children or grandchildren:

This is the place where Gosai Das sang
This is the place where Gosai Das sang on a late spring night in 2006;
This is the song that Banikanta made that Gosai Das sang on a late spring night in 2006;
This is the poet who went to meet the poet who talked in songs and riddles that Gosai Das sang on a late spring night in 2006. . .

Written in May 2014.

Related link:

http://www.thebookreviewindia.org/articles/archives-1032/2012/september/9/of-syncretic-traditions.html